বাহারাইন বিজয় শেষে ইমাদুদ্দিন জিনকি মাআররাতুন নুমানের দিকে অগ্রসর হন। শহরটি একসময় মুসলিমদের থাকলেও পরে খ্রীষ্টান রা তা দখল করে নেয়। মাআররাতুন নুমানে সুলতান প্রথম আক্রমনেই খ্রীষ্টানদের পরাজিত করে শহরটি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন। মাআররতুন জয় করার পর তিনি কুফরেতাবের দিকে অগ্রসর হন। কুফারেতাবে কার্যকরী কোন প্রতিরোধ ছাড়াই তিনি সহজেই শহরটি জয় করে নেন। ইতিহাসবিদগন লেখেন জখন খ্রিষ্টানরা এই শহর দখল করে নেয় তখন তারা আধিবাসী মুসলিম জনপদে গনহত্যা চালায় কিন্তু ইমাদুদ্দিন জিনকি জখন শহর দুটি দখল করে নেন তখন খ্রীষ্টান আধিবাসীদের ক্ষমা করে দিয়ে আসবাসপত্র নিয়ে সসম্মানে চলে যেতে দেন। ইমাদুদ্দিন জিনকি যখন শহর দুটো নিয়ে ব্যাস্ত তখন খ্রীষ্টান রা এই সুযোগে কনস্টান্টিনোপল, ফ্রান্স ও জেরুজালেমের যৌথ বাহিনী হালাব অবরোধ করে । হালাবে ইমাদুদ্দিন জিনকির প্রতিনিদি মুসলিমদের একটি বাহিনী নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ করে তুলেন। এই খবর ইমাদুদ্দিন জিনকির কানে পৌঁছলে তিনি তার বাহিনী নিয়ে দ্রুত হালাবের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং রাতের অন্ধকারে খ্রীষ্টানদের নিশেঃষ করে দেন। এইভাবে ইমাদুদ্দিন জিনকির বিরত্বে আরেকবার খ্রীষ্টানরা পরাজয় বরন করে।
ক্রুসেডরদের থেকে অনেক দূর্গ বিজয়ের পর ইমাদুদ্দিন জিনকির উৎসাহ তখন তুঙ্গে ইমাদুদ্দিন জিনকি এইবার সিন্ধান্ত নেন ক্রুসেডরদের শক্তিশালী একটি দূর্গে আক্রমন করবেন। দূর্গটির নাম কখনো আর-রাহা, আবার কখনো উদায়াসা, আজজা নামে ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। শহরটি অতীতে মুসলিমদের দখলে থাকলেও পরে খ্রীষ্টানরা সেটা দখল করে নেয়। খ্রীষ্টানদের এই রাজ্যের জন্য আশেপাশের মুসলিম রাজ্য যেমনঃ বাগদাদ, মসুল, দিয়ারে বাকার সংকটের মাঝে থাকতো। এর আগেও অনেক মুসলিম শাসক এই শহরে আক্রমন করে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি কিন্তু এইবার আক্রমন কারী ছিল ইমাদুদ্দিল জিনকী জিনই কোন যুদ্ধেই মানেন না । ইমাদুদ্দিন জিনকি ১১৪৩ঈসায়ই সালে সেই শহরে পৌঁছান এবং নিশ্চিদ্রভাবে শহরকে ঘেরাও করে ফেলেন। উদার ইমাদুদ্দিন জিনকি অবরোধ করার পর শহরের শাসক ফরাসি জুসেলিন কে বার্তা পাঠান এই শহর বীজিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে একচুলও নড়বো না আপনার জন্য ভালো হবে অস্ত্র ফেলে দিয়ে আত্মসমার্পন করুন। কিন্তু দূর্গের ভিতরে বিসাল বাহিনী থাকায় জুসেলিন ইমাদুদ্দিন জিনকির আহ্বান প্রত্যাখ্যান যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। জুসেলিন প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর ইমাদুদ্দিন জিনকি তিব্র হামলা শুরু করেন। ২৮ দিন পর্যন্ত তিনি শহর অবরোধ রাখেন বার বার হামলার কারনে ভিতরের সৈন্য অনেকটা কমে আসে। অতঃপর ১১৪৪ ঈসায়ী সনের ২৪ তারিখ ইমাদুদ্দিন জিনকি শহরের ভিতরের ঢুকেন এবং শহর বিজয় করেন।
আর-রাহা বিজয়ের পর ইমাদুদ্দিন জিনকি বিরত্বের সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। খ্রীষ্টানজগতে মাতম শুরু হয়ে যায় তারা এইটা ভেবেই কুল পাচ্ছিলোনা সাধারন মসুলের শাসক ইমাদুদ্দিন জিনকি যার কাছে সাধারন একটা ছোট একটা সৈন্য বাহিনী ছিল আর সে কিনা শেষ পর্যন্ত খ্রীষ্টানদের শক্তিশালী দূর্গ আর-রাহা দখল করে নিল।
আর-রাহা বিজয়ের পর ইমাদুদ্দিন জিনকি খ্রীষ্টানদের আরও দূর্গ জয় করে এর মধ্যে অন্যতম ছিল সাইরুজ দূর্গ।
ইউরোপীয় খ্রীষ্টানরা যখন দেখলো ইমাদুদ্দিন জিনকি কোন সম্মুখ যুদ্ধে হারানো সম্ভব না তখন তারা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ আঁটে। তারা জনৈক গোলাম প্রচুর টাকা পয়সার লোভ দেখিয়ে ইমাদুদ্দিন জিনকি হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়োগ দেয় । ওই মুনাফেক কাপুরুষ ইমাদুদ্দিন জিনকি ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রমন করে শহীদ করে। ইমাদুদ্দিন জিনকি ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল ৬১ বছর।
বিখ্যাত খ্রীষ্টান ঐতিহাসিক মির্চাড লেখেন ইমাদুদ্দিন জিনকি মৃত্যু তারা নবজীবন এবং তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে।
ইমাদুদ্দিন জিনকি দুঃসাহস, বিচক্ষনতার,বুদ্বীমত্তার ফলে একদম সাধারন অবস্থা থেকে এক অন্যন্য উচ্চতায় উঠে গিয়েছেন। তিনি একদিকে মুসলিম শত্রুদের দমাতেন অন্যদিকে খ্রীষ্টান শত্রুদের অগ্রাসী হামলা করতেন। তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার ব্যাক্তি তিনি যুদ্ধের ময়দানেও নামাজ কাজা হতে দিতেন না। তিনি শরীয়া পদ্ধতিতে বিচার করার জন্য এলাকা ভিত্তিক কাজী নিযুক্ত করেন। ইমাদুদ্দিন জিনকি ছিলেন তার সময়ে একজন দুর্ধ্রর্ষ মুসলমান তিনি তার রাজ্যের প্রত্যেকটি কোনায় গোয়েন্দা ছড়িয়ে রাখতেন যাতে রাজ্যের সকল খবর অনেক দ্রুতই পেয়ে যেতেন। তিনি রাজ্য অনেক গুরুত্বের সহীত পরিচালানা করতেন একবার মসুলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তখন তিনি তার সকল অর্থ দান করে দেন কঠিন সমইয়েও তিনি মানুষকে অভাব বুঝতে দেননি। কখনোই তিনি মসুলের মানুষকে অভুক্ত রাখেন নি। তিনি তার অমুসলিম প্রজাদের প্রতিও সহানুভূতিশীল ছিলের একবার ইমাদুদ্দিন এক প্রিয় কর্মকর্তা ইহুদীর বাড়ী দখল করে নেয় ওই ইহুদী এসে ইমাদুদ্দিন জিনকির কাছে এসে বিছার দিলে তিনি তার কর্মকর্তার প্রতি এমন ক্রোধের দৃষ্টিতে তাকান যে ওই কর্মকর্তা দ্রুত গিয়ে ইহুদীকে তার বাড়ী বুঝিয়ে দিয়ে আসে। ইমাদুদ্দিন জিনকি একজন বীর তিনি যেখানে যেতেন বিজয়ের ঝান্ডা উড়াতেন।
ইমাদুদ্দিন জিনকি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দ্যা লিজেন্ড বইটি পড়তে পারেন। বিদ্রঃ কোন ভুল পেলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।


2 মন্তব্যসমূহ
নুরুদ্দীন জিনকির পরে মুসলমানদের কান্ডারী হিসাবে দেখা দেয়, তার ধারাবাহিক ঘটনাবলী আমরা জানতে চায়। সম্ভব হলে লিখবেন।
উত্তরমুছুনভাই ফলো বাই ইমেইলে আপনার ইমেইল দিয়ে আমদের ফলো করে রাখেন লিখলেই আপনার কাছে চলে যাবে।
মুছুন