সময় কেনো আপেক্ষিকঃ
সববেগে চলা বস্তুর বেগ, অতিক্রান্ত দূরত্ব ও অতিক্রান্ত সময়ের মধ্যে সম্পর্ক জানা যায় s=vt সূত্র থেকে। এখানে s অতিক্রান্ত দূরত্ব v হলো বেগ আর t সময়। আলোর ক্ষেত্রে সূত্রটিকে লেখা যায় s=ct, যেখানে c হলো আলোর বেগ (ঘন্টায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল)। ধরুন আপনি কোন এক যায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে সামনের দিকে টর্স জ্বালালেন। টর্চের আলো c বেগে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ধরুন আপনি নিজেও সেকেন্ড ২০ মিটার বেগে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাহলে টর্চের আলোর বেগ বেড়ে হওয়ার কথা c+20। কিন্তু মাইকেলসন- মর্লি পরীক্ষা বলছে এই বেগ c ই থাকবে। ফলে s=ct এবং s=(c+20)t সমান যাচ্ছে, যা সম্ভব নয়। আইনস্টাইন ভাবলেন, সমীকরনের বাম পক্ষকে ঠিক রাখতে ডান পক্ষের সময়কে পরিবর্তনশীল ভাবতে হবে। সময়ের এই আপেক্ষিকতা থেকেই কাল দীর্ঘায়ন (time dilation) এর ধারনা এসেছে।
সময়ের আপেক্ষিকতার ফলাফলঃ
বেশি গতিতে চলা দর্শকের সময় স্থির দর্শকের তুলনায় ধীরে হবে। ফলে একই ঘটনার মধ্যবর্তী সময় গতিশীল দর্শক যা মাপবেন, স্থির দর্শক মাপবেন তার চেয়ে বেশি। ছোটখাটো বেগের জন্য এ পার্থক্য উপেক্ষা করার মতো। যেমন কেউ সেকেন্ডে ২০ কিলোমিটার বেগে একবছর চললেও স্থির ব্যাক্তির তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৭ সেকেন্ড সময় অতিবাহিত হবে। এজন্যই দৈনন্দিন জীবনে আমরা এর মুখোমুখি হই না। আর এই কারনেই এটি আমাদের স্বাভাবিক বুদ্ধির বিপরীত। তবে বেগ বেশি হলে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হয়। যেমন আলোর ৯৫ শতাংশ গতীতে চলা দর্শকের তুলনায় স্থির দর্শকের সময় প্রবাহিত হবে তিনগুন। আলোর ৯৯ শতাংশ বেগে চললে স্থির দর্শকের সময় প্রবাহিত হবে প্রায় ৭গুন। কনা-পদার্থবিদ্যায়র গবেষনাগার সার্নে আব-অ্যাটমিক কনাদের এই রকম বেশি বেগেই প্রবাহিত করা হয়।
পৃথিবীর চারপাশে ঘূর্ননরত ২৪টি স্যাটেলাইটের কল্যানে আমরা জিপিএসের সুবিদা উপভোগ করছি। কিন্তু আপেক্ষিকতা ব্যাবহার না করলে জিপিএস সঠিক ফলাফল দিতে পারত না। স্যাটেলাইটে থাকা ঘড়ি ঘন্টায় ১৪ হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরছে। এরা দিনে দুইবার করে প্রদক্ষিন করছে পৃথিবীকে। ফলে এদের কাল দীর্ঘায়নের প্রভাবে পৃথিবীর ঘড়ির সঙ্গে এদের পার্থক্য হয় দিনে ৭ মাইক্রোসেকেন্ড। ১ মাইক্রোসেকেন্ড হলো ১ সেকেন্ডের ১০ লাখ ভাগে ১ ভাগের সমান। সময়ের তারতম্য অবশ্য মহাকর্ষের প্রভাবেও হয় এবং তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। সেসব তথ্য বিবেচনায় নিয়েই সঠিক অবস্থা দেখাতে পারবে আপনার স্মার্টফোনের জিপিএস অ্যাপ।
লেখা-আব্দুল্লাহ আদিল মাহমুদ।
0 মন্তব্যসমূহ