সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

মুসলিম বীর যোদ্ধা নুরুদ্দিন জিনকি (পর্ব-১)

মুসলিম বীর যোদ্ধা নুরুদ্দিন জিনকি (পর্ব-১)

আগে আমরা মুসলিম বীর যোদ্ধা ইমাদুদ্দিন জিনকি সম্পর্কে জেনেছি আজকে আমরা জানবো তার পুত্র নুরুদ্দিন জিনকি সম্পর্কে । নুরুদ্দিন জিনকি নিজেকে তার বাবার যোগ্য উত্তর সূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন বরং ক্রুসেডরদের বিরুদ্ধে পিতা অপেক্ষা ভয়ঙ্কর হিসেবে আর্ভিভূত হন। নূরুদ্দিন ছিলেন একজন মহান শাসক যিনি তার ন্যায়বিচার ও নম্রতাবোধের জন্যও পরিচিত ছিলেন। ইমাদুদ্দিন জিনকি ইন্তেকালের পর তার সম্রজ্য দুইভাগে ভাগ হয় এক ভাগ পরিচালানা করেন নুরুদ্দিন জিনকি নিজে অন্যভাগ পরিচালানা করতো তার ভাই সাইফুদ্দিন। সাইফুদ্দিন ইন্তেকাল করলে সমগ্র সম্রাজ্যের ভার তার কাঁধে অর্পিত হয়। ইসলামি বিশ্বের সকল দায়িত্ব এই বাঘের বাচ্ছা সূচারু এবং উত্তম রুপে পালন করেন। মোট কথা ইমাদুদ্দিন জিনকির পর নুরুদ্দিন জিনকি্র মুসলিম বিশ্বে প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব হিসেবে উত্থান হয়। 


তার পুরো নাম হলো নুরুদ্দিন (নূর আদ-দিন) আবু আল কাশিম মাহমুদ ইবনে ইমাদুদ্দিন (ইমাদ আদ-দিন) বিন আতাবেক কাসিমূদ্দৌলাহ আবী সাইয়েদ জেঙ্গী (জাঙ্কি,জেনগী,জিনকি,জাঙ্গী, জঙ্গি) আল আমির আল কবির আক সুকুর আত তুর্কী । তাকে জেনগী ও ইবনে আল কাসীম নামেও ডাকা হতো [১]। উকিপেডিয়ার মতে তার নাম নুরউদ্দিন জেনগি।

নুরুদ্দিন জিনকি ১১ ফ্রেব্রুয়ারী ১১১৭ ঈসায়ী  ৫১১হিজরি সালের শাওয়াল মাসে জম্মগ্রহন করেন [২ ] । তার বংশ তুর্কি সাবোয়া নামক একটি উপজাতীয় বংশের সাথে সম্পর্কিত। কিশোর থেকে নূরুদ্দিন জিনকি তার বাবা ইমাদুদ্দিন জিনকির কাছে থেকে উত্তম শিক্ষা নিয়ে বড় হন [৩].। বাবার কাছে উত্তম শিক্ষা লাভ করার  মাধ্যমে নুরুদ্দিন জিনকি পন্ডিত এবং মুজাহিদ হিসেবে বেড়ে উঠেন তিনি কুরআন, তাফসীর, হাদীস, আইন, ইতিহাস,বিভিন্ন বিষয়ে ফরাসি এবং গ্রীক ভাষায় পন্ডিত্য অর্জন করেন । তিনি একজন ভালো সৈন্যও ছিলেন তিনি একজন ভালো তীরন্দাজ এবং একজন ভালো চৌগান খেলোওয়ার ও ছিলেন [৪]। তিনি সমর আমীরদের কাছ থেকে যৌদ্ধের কৌশল রপ্ত করেছেন যেমন আসাদ আল-দীন শিরকুহ এবং ইবনে আল দায়েরদের কাছে থাকতেন তিনি। এবং তিনি সব সময় তার বাবার পাশা পাশি থাকতেন তার বাবা যেই অভিজান করতেন তিনি তাতে যোগ দিয়ে নেতৃত্ব দিতেন এতে তার নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় । তার বাবা যখন আর রাহা জয় করেছিলেন তিনি তার সাথেই ছিলেন এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন [৫]। নূরউদ্দিন জিনকি তার সামরিক দক্ষতা নিয়ে শিঘ্রই সামনে এসেছিলেন। 

১১ সেপ্টম্বর ১১৪৬ সালে যখন ইমাদুদ্দিন জিনকিকে হত্যা করা হয়  তখন তার সম্রাজ্য দুটি ভাগে ভাগ হয় যায়। মসুলের দায়িত্ব পায় নুরুদ্দিন জিনকির বড় ভাই সাইফুদ্দিন জিনকি আলেপ্পোর দায়িত্ব পান নুরুদ্দিন জিনকি নিজে [6]।সাইফুদ্দিনও ছিলেন একজন সত্যনিষ্ট শাসক তিনি কিছুদিন তিনি কিছুদিন সুলতান মাউদের প্রসাদে ছিলেন ইমাদুদ্দিন জিনকি ইন্তেকাল করলে তিনি আবার মসুলে ফিরে আসেন  [৭]। নুরুদ্দিন জিনকি দায়িত্ব গ্রহন করার পর প্রাচ্যের দিকে মনোনিবেস করেন এবং ক্রুসেডরদের বিরুদ্ধে তার বাবার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। 

জোসেলিন দ্বিতীয় ইমাদুদ্দিন জিনকির মৃত্যুর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না তিনি আর রাহা দখল করার জন্য আর রাহাতে থাকা আর্মেনীয় খ্রীস্টানদের সাথে চুক্তি করে আর রাহা আক্রমন করেন । ইমাদুদ্দিন জিনকি এই খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত আর-রাহা পৌঁচে খ্রীষ্টানদের পরাজিত করে আর-রাহা বা এডেসা শহর পূনরায় নিয়ন্ত্রনে নেন।  আর-রাহার খ্রীষ্টানরা নুরুদ্দিন জিনকির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কারনে নুরুদ্দিন জিনকি শহর থেকে সকল খ্রীষ্টানদের বিতাড়িত করেন মৃত্যুদন্ডের বদলে এইটাই ছিল তাদের জন্য নম্র শাস্তি [৮]। 

নুরুদ্দিন জিনকির স্বপ্ন ছিল তার বাবার মত মুসলিমদের হারানো শহর গুলো বিজয় করা। তিনি মুসলিম ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন কিন্তু এই ঐক্যফ্রন্টের সবছেয়ে বড় বাধা ছিলো সিরিয়ার বুরি বংশ। তারা  ঐক্যফ্রন্টের অধীনে না থেকে নিজেদের স্বাধীন হিসেবে ঘোষনা করে। ১১৪৭ সালে বুরি বংশ নুরুদ্দিন জিনকির সাথে চুক্তি করে নিজেদের স্বাধীন রাখার জন্য দামেস্কের বদলে নুরুদ্দিন জিনকিকে অন্য অঞ্চল দেওয়া হয়।  চুক্তির অংশ হিসেবে নুরুদ্দিন জিনকি উনুরের মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু বুরি রাজবংশের উনুরের এর নুরুদ্দিন প্রতি সন্দেহ ছিলো তাই তিনি ক্রুসেডরদের সাথে তার সক্ষতা বৃদ্ধি করতে থাকেন।

। নুরুদ্দিন জিনকি দামেস্ক থেকে বেরিয়ে আর-রাহা ও হামার মধ্য বর্তী অরণ্টেস নদীর পূর্ব পাশের দূর্গ গুলো এক এক করে বিজয় করতে থাকেন দূর্গগুলো ছিলো আরতাহ, কাফার লাতা, বাসারফুট, বালাত এবং হাব এই সবগুলোই ছিলো ফ্রঙ্কদের অধীনে [৯]। এভাবে ইমাদুদ্দিন জিনকির মত নুরুদ্দিন জিনকি তার শক্তিমত্তার জানান দেন এবং ক্রুসেডরদের অন্যতম ভয়ের কারন হয়ে উঠেন। জোসেলিন দ্বিতীয় আর-রাহায় ব্যার্থ অবরোধ করার পর নুরুদ্দিন জিনকির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এন্টিয়কের রাজপুত্রের অপেক্ষা করছিলেন। 

এদিকে ক্রুসেড বাহিনী টানা পরাজয়ের পর আনাতোলিয়ায়  ভুগতে শুরু করে। কিন্তু এরপরেও তারা সিদ্ধান্ত নেয় দ্বিতীয় ক্রুসেড এর। তারা দামেস্ক আক্রমন করে বসে দামেস্ক ছিল বুরি রাজবংশের মূল কেন্দ্র। দামেস্কের গভর্নর উনুর কোন উপায় না পেয়ে নুরুদ্দিন জিনকির কাছে সাহায্য চান। নুরুদ্দিন জিনকি দ্রুত দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নুরুদ্দিন জিনকি আর উনুর একসাথে আক্রমনে ক্রুসেডররা অবরোধের চতুর্থ দিনের মাথায় পরাজয় বরন করে এই অবরোধ ছিলো ১৪৪৮ সালের ২৪শে জুলাই থেকে ২৮শে জুলাই পর্যন্ত [১০]। দ্বিতীয় ক্রুসেডে ক্রুসেডদের ব্যার্থতার ফলে ক্রুসেড অঞ্চলগুলোতে নুরুদ্দিন জিনকি আধিপত্য আরো বেড়ে যায়। 

ক্রুসেড শেষ হওয়ার পর নুরুদ্দিন জিনকি এন্টিওকের প্রিন্সিপালেটির বিরুদ্ধে যুদ্ধা চালিয়ে যান। এই যুদ্ধে ২৯ জুন ১৯৪৯ সালে ইনাবের নিকট নুরুদ্দিন জিনকি এন্টিওকের দুটি সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেন  এবং রাজপুত্র রেইমন্ড সহ মারাশের সিনিয়র রেইনাল্ড এবং হাসাসিনের নেতা (এসেসিন ক্রিড গেমে যাদের দেখানো এরাই হাসাসিন) আলি ইবেন ওয়াফাকে হত্যা করা হয় । এই বিজয় সমগ্র মুসলিম জগতে নুরুদ্দিন জিকির প্রতিপত্তি প্রচুর পরিমানে বাড়িয়ে দিয়েছিলো [১১]। 

১৯৪৯ সালে নুরুদ্দিন জিনকির বড় ভাই সাইফুদ্দিন গাজি ইন্তেকাল করলে মুসুল এর নতুন শাসক নিযুক্ত হয় নুরুদ্দিন জিনকির ছোট ভাই কুতুবুদ্দিন জিনকি তিনিও ছিলেন অত্যান্ত সৎ এবং কোমল হৃদয়ের। কুতুবুদ্দিন জিনকি মসুলের শাসক নিযুক্ত হওয়ার পর নুরুদ্দিন জিনকি কে সম্পূর্ন জেঙ্গি সম্রজ্যের সুলতান হিসেবে ঘোষনা করেন [১২]।

তিনি ক্ষমতায় আসার তিন বছরের মধ্যে তার অন্যতম শন্ত্রুকে নির্মূল করার পর ক্রুসেডরদের অন্যতম দুটি দূর্গ আফমিয়া ও হারিম এর প্রতি তার লক্ষ্য স্থির করেন। নুরুদ্দিন জিনকি সেইন্ট সাইমন পর্যন্ত জয় করতে সম্ভব হন কিন্তু সৈন্য স্বল্পতার কারনে এন্টিয়ক অবরোধ করতে পারেন নি তিনি প্যাট্রিয়াক আমেরির সাথে স্বল্প মেয়াদী যুদ্ধ বিরতি চুক্তি করে আফমিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ১১৪৯ সালের ২৬ জুলাই নুরুদ্দিন জিনকি প্রিন্সপালিটি অফ এন্টিওকের শেষ দূর্গ আফমিয়া জয় করেন।  ১১৫০সালে নুরুদ্দিন জিনকি কাউন্ট দ্বিতীয় জোসেলিন কে ধরে ফেলেন এবং তাকে বন্দি করে কারাগারে প্রেরন করেন। কাউন্ট ব্রিটিরেস কাউন্ট দের ছেড়ে যাওয়া জমি গুলো বিক্রি করতে বাধ্য হন কারন সে নুরুদ্দিন জিনকি এবং সুলতান মাসউদ এর থেকে এই জমি রক্ষা করতে পারবে না ভয়ে যদিও পরে তুর্কিরা সেগুলো দখল করে নেয়। 
১১৫১ সালে নুরুদ্দিন জিনকি  রাওয়ান্দান এবং তেল-বাশিরকে এবং সুলতান মাসউদ আইন্তাব এবং ডলিচ  আর্টুকুইডসের বে তিমুরতাশ সিমসাত এবং বিরজিক বিজয় করে এডেসা থেকে কাউন্টি ক্রুসেডরদের পুরোপুরি উৎখাত করা হয়। 
নুরুদ্দিন জিনকি সবসময় স্বপ্ন মুসলিম দের ঐক্যফ্রন্ট করা যাতে ক্রুসেডররা মুসলিমদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে না পারে কিন্তু সিরিয়ার বুরি বংশ যেন গলায় মাছের কাটার মত আটকে ছিলো। বুরি বংশ ক্রুসেডর সাথে সক্ষতা করে চলতো নুরুদ্দিন জিনকি মুসলিম ভাইদের প্রান ঝরাতে চান নি তাই তিনি কৌশল অভলম্ভন করেন। নুরুদ্দিন জিনকি শহরে সরাসরি আক্রমনের পরিবর্তে বুরি রাজবংশের প্রতি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেন। চাপ বাড়িয়ে কোন লাভ হচ্ছিলো না কারন বুরি বংশ ফ্রাঙ্কদের সাথে মিলে দামেস্ককে ঐক্যফ্রন্ট থেকে দূরে রাখলেন। তাই নুরুদ্দিন জিনকি অন্য পন্থা অভলম্বন করতে বাধ্য হন তিনি শহরের গম সরবরাহ বন্ধ করে দেন এতে বুরি বংশের মূল কেন্দ্র দামেস্কে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। অনেকের মতে বুরি সম্রাজ্য তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্র করতে থাকে এতে দামেস্কের জনগন বুরি রাজবংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু। প্রায় এক সপ্তাহ এই কার্যক্রম চলার পর বুরি রাজবংশ নুরুদ্দিন জিনকি সাথে মিলিত হবার সিন্ধান্ত নেয়। নুরুদ্দিন জিনকি দামেস্কের ক্ষমতা গ্রহন করার পর দামেস্কের আবাক কে নুরুদ্দিন জিনকি বিরুদ্ধে হত্যার প্রচেষ্টার দায়ে দামেস্ক থেকে বরখাস্ত করা হয়। নুরুদ্দিন জিনকি দৃড় সংকল্প আর প্রচেষ্টায় তিনি পুরো সিরিয়াকে একত্রিত করতে সম্ভব হন এখন সমস্ত ক্রুসেডর রাজ্যের পূর্ব সিমান্ত একক মুসলিম নেতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিলো যা খ্রিষ্টান জগতের জন্য ছিলো অনেক বড় দুঃসংবাদ।
দামেস্কের ক্ষমতা গ্রহনের পরেই নুরুদ্দিন জিনকি দামেস্কে ও জেরুজালেমের মধ্যে পূর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তি একবছর বৃদ্ধি করেন। এর কিছুদিন পরেই নুরুদ্দিন জিনকি মুসলিম শহর বালবাক বিজয় করেন । কিছু দিন পরে সেলজুক সুলতান মাসউদ ইন্তেকাল করলে তার ছেলেদের মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয় এবং এর মধ্যে ডেনিশমেনেডিড রাও যুক্ত হয়ে যায় নুরুদ্দিন জিনকি ডেনিশমেনেডিড এর রক্ষক হয়ে ক্রুসেডরদের হুমকি স্বরুপ নিরপেক্ষ অবস্থান করছিলেন তিনি সবসময় তৎফর ছিলেন ক্রুসেডররা যেন এই দ্বন্ধ থেকে ফায়দা তুলেতে না পারে। কিছু দিনপর সুলতান মাসউদ পুত্র কিলিজ আরসালান দ্বিতীয় ক্ষমতায় লাভ করেন। ক্ষমতা লাভ করার পর তিনি  কিলিজ আরসালান দ্বিতীয় নিজেকে আর্মেনীয় লর্ড এবং ক্রুসেডর শাসকদের  সাথে জোট করেন। নিজের স্ত্রীর ভাই এর এহেন কর্মকান্ড দেখে নুরুদ্দিন জিনকি সেলজুক এবং জেরুজালেম এর মধ্যবর্তি আইতাব ও রাবান দখল করে কেন। কিলিজ আরসালান দিত্বীয় এবং ক্রুসেডরা মিলিত হয়ে নুরুদ্দিন জিনকি কাছে সেই জমি ফিরত চান কিন্তু কিলিজ আরসালান ক্রুসেডরদের সাথে মৈত্রী করার অপরাধে তিনি তা ফিরত দিতে অস্বীকার করেন।

এদিকে জেরুজালেমের ক্রুসেডররা যুদ্ধবিরতী চুক্তি লঙ্গন করে আলেপ্পোর আশে পাশে লুন্ঠন ও ক্ষয়ক্ষতি করা শুরু করে। নুরুদ্দিন জিনকি তাদের দমানোর উদ্ধেশ্যে বের হন এবং তাদের পরাজিত করেন। জেরুজালেমের ক্রুসেডররা পরাজিত হয়ে যুদ্ধ বিরতী চুক্তি নবায়ন করে নভেম্বরের ১৯৫৬ সালে।  ১১৫৭ সালে জেরুজালেমের রাজা বাল্ডউন বানিয়াসের নিকট চরাঞ্চলে বিশাল এক পশুপালক বাহিনীকে আক্রমন করে চুক্তি সমাপ্ত করেন।  বাল্ডউনের এমন কর্মকান্ড দেখে নুরুদ্দিন জিনকি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তার সেনাপতিরা প্রতিশোধ মূলক কয়েকটি আক্রমন করে । এর পর নুরুদ্দিন জিনকি নিজেই  তার বাহিনী নিয়ে বনিয়াস কে অবরোধ করেন। তবে যখন তিনি জানতে পারেন জেরুজালেমের রাজা বনিয়াস রক্ষা করতে করতে বনিয়াসে আসছেন তখন তিনি নিম্ন অঞ্চলে আগুন লাগিয়ে পিছু হটেন। পরে টিবিয়াস লেকের উত্তরে এসে জেরুজালেম রাজার বাহিনীর উপর আক্রমন করে তাদের পরাজিত করেন। এরপরে তিনি আবার বনিয়াসে পিরে আসেন এবং আবার অবরোধ করেন। কিন্তু সুলতান কিলিজ আরসালান দ্বিতীয় বিশাল বাহিনী নিয়ে এন্টওক অবরোধ করার জন্য আসছেন এই খবর শুনার পর তিনি তার বাহিনী নিয়ে আলেপ্পোতে ফিরে আসেন। আরেকটি বিষয় যা নুরুদ্দিন জিনকি কে ক্রুসেডরদের বিরুদ্ধে গুরতর আক্রমন থেকে বিরত রেখেছিল তা ছিল ১১৫৬/৫৭ সালে সিরিয়ায় বিশাল ভূমিকম্প এর কিছুদিন আগেও বসন্তে সিরিয়া অনেক বড় ভূমিকম্প হয়েছিলো। ১১৫৭ গ্রীস্মে, সিরিয়া এখনো ভূমিকম্প দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত ছিলো এই ভূমিকম্পের ফলে হিমস,আলেপ্পো এবং আফিমিয়া ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানি তবু এটি বিশেষত হামার জন্য বিপর্যয় ছিলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ